হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সুতাং নদী খনন থেকে উত্তোলিত বালু নিলামকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে টাকা দিয়ে তারা নদীর খনন করা বালু কিনেছেন। এখন ওই বালু নিলামে দেওয়া হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। টাকা ফেরত দেওয়া না হলে বালু নিলাম করতে দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেছেন তারা।
সুতাং নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে সরকারি উদ্যোগে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে সরকারি বিদ্যালয়, মসজিদ প্রাঙ্গণ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিভিন্ন স্থান ভরাট করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বালু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
এসব স্তূপীকৃত বালুর পাঁচটি স্পট নিলামের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) লাখাই উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়নের লাখাই গ্রামের বাংগালপাড় হাটির পাশে স্তূপ করে রাখা বালু নিলাম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
নিলাম কার্যক্রম শুরুর আগেই বাংগালপাড় হাটির শত শত নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা নিলাম কার্যক্রমে বাধা দেন।
স্থানীয়দের দাবি, তারা সম্মিলিতভাবে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে টাকা দিয়ে ওই বালু সংগ্রহ করেছেন এবং তা দিয়ে নিজেদের নিচু জমি ভরাট করেছেন। এখন বালু নিলামে দেওয়া হলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই হয় তাদের দেওয়া টাকা ফেরত দিতে হবে, নয়তো জমিতে ভরাট করা বালু সেখানেই রাখতে দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতা রায়হান উদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন ও আশীষ দাশগুপ্ত তাদের কাছ থেকে বালুর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। তারা ওই টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
তবে স্থানীয়দের করা এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন না করে ফিরে যায়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নিলামের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “স্তূপীকৃত বালুর পাঁচটি স্পটের নিলাম কার্যক্রম যথানিয়মে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাংগালপাড় হাটির বালু নিয়ে স্থানীয়রা অর্থ আদায়ের যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”