হবিগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার-এর সম্পাদক ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু ঘিরে ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের বেসরকারি চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় জমে। এ সময় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের প্রতিনিধি।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে গোলাম মোস্তফা রফিক প্রায় এক দিন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদের হাসি হাসপাতালে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে ডা. সোলাইমানের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তাঁর সহকারী আল-আমিনের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে রফিকের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তিনি মারা যান।
তবে চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলার অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদের হাসি হাসপাতালে যান হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
হুইপ জি কে গউছ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁর মৃত্যু ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোলাম মোস্তফা রফিক হবিগঞ্জের সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার-এর সম্পাদক এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
রফিকের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা চিকিৎসায় ভুল ও অবহেলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা।