
মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সাদেকুল ইসলাম গোলাপের বাবা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাসভবনে ছুটে যান।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে গাইবান্ধা শহরের শাপলাপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছান্দিয়াপুর আর এ গণি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আরাজি তরফ কামাল গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজার আগে মরহুমের কর্মময় জীবন ও অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল, সদস্যসচিব আব্দুস ছালাম মিয়াসহ দলীয় নেতারা। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলী সরকার শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছান্দিয়াপুর হাইস্কুল এবং ড. আর এ গনি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মিরপুর হাইস্কুল ও মাদারগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসায় ইংরেজি শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ১৯৭১ সালে রসুলপুর ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি গাইবান্ধা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া আমৃত্যু জয়দেব ঈদগাহ কমিটি ও গাইবান্ধা জেলা হাজি কল্যাণ সমিতির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষকতা, রাজনীতি ও সমাজসেবার মাধ্যমে আইয়ুব আলী সরকার দীর্ঘদিন মানুষের পাশে ছিলেন। শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এ কারণে এলাকায় তিনি একজন শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, আইয়ুব আলী সরকার দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা, আদর্শ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।