
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেঘরিয়া-১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণয় কান্তি মহালদারকে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, চরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিত ছুটিতে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হাজী করিম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিব কুমার দেব ও তৌহিদুল ইসলাম অননুমোদিত ছুটিতে থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণয় কান্তি মহালদারকে।
সূত্র জানায়, উপজেলার অননুমোদিত ছুটি ও অনুপস্থিতিতে থাকা চার সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এমনিতেই পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের দিনের পর দিন অননুমোদিত ছুটি ও অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষক অননুমোদিত ছুটিতে থাকায় বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
হাজী করিম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন আটজন। তাঁদের মধ্যে দুজন শিক্ষক অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত ও ছুটিতে থাকা সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে ওই পদগুলো শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।