মহিষ পালন মানেই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, খোলা মাঠ আর সবুজ ঘাস, এমন প্রচলিত ধারণাকে বদলে আধুনিক খামার পদ্ধতিতে বিদেশি জাতের মহিষ পালন করে সাড়া ফেলেছেন ভোলার চরফ্যাশনের উদ্যোক্তা মনজুর আলম সায়েম।
চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর শিবা এলাকায় ‘আপন এগ্রো ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন তিনি। অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি শখ ও নতুন কিছু করার চিন্তা থেকে গরু-মহিষ পালনের উদ্যোগ নেন সায়েম। পরে পরিকল্পিতভাবে খামারটি সম্প্রসারণ করে সেখানে বিদেশি জাতের মহিষ পালন শুরু করেন।
উদ্যোক্তা মনজুর আলম সায়েম জানান, বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ৮০টি বিদেশি জাতের মহিষ রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি জাতের প্রায় ৭০টি গরুও পালন করা হচ্ছে। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে মহিষ পালনের ঐতিহ্য থাকলেও তারা মূলত চরাঞ্চলে মহিষ পালন করতেন। সেই প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক খামারে মহিষ পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সায়েম বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম জায়গায় ঘরের মধ্যে অনেক মহিষ পালন করা সম্ভব। এতে সব বয়সী মানুষও পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনায় যুক্ত হতে পারেন। তাঁর এই উদ্যোগ চরাঞ্চলে মহিষ পালন সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করেন তিনি।
উদ্যোক্তার দাবি, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও তাঁর ‘আপন এগ্রো ফার্ম’ পরিদর্শন করেছেন। খামারের ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
খামারে বর্তমানে প্রায় ২২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। ফলে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তার তথ্য অনুযায়ী, খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মনজুর আলম সায়েম বলেন, মহিষের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খামারটি বড় করতে পারলে স্থানীয় বাজারে দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আরও বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়দের মতে, চরাঞ্চলে প্রচলিত মহিষ পালনের ধারণার বাইরে গিয়ে আধুনিক খামার ব্যবস্থায় বিদেশি জাতের মহিষ পালন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এ ধরনের খামার সম্প্রসারণ করা গেলে দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে।