‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদারীপুরে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় র্যালি, মতবিনিময় সভা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় মাদারীপুর জেলার সমন্বিত অফিস প্রাঙ্গণের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মোড় হয়ে ১০ তলা সমন্বিত অফিস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। এরপর সরকারি সমন্বিত ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পেনশন স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশন স্কিমে সঞ্চয় করতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে পেনশন হিসেবে সেই অর্থের সুবিধা পাবেন। কোনো পেনশন গ্রাহক ৬০ বছর বয়সের আগে মারা গেলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন।
আয়-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে নিয়মিত চাঁদা দিতে অসুবিধা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ কম-বেশি করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরই ফেরত দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, পেনশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ভবিষ্যৎ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সর্বজনীন পেনশন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে এ সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব শরীফ নজরুল ইসলাম। সভায় অংশগ্রহণকারীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয়ের কথা তুলে ধরেন। পরে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মর্জিনা আক্তার বলেন, দেশের সব জনগণকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় সম্পৃক্ত করতে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
মেলায় দর্শনার্থীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়।
মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের স্টল ছিল।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার কার্যক্রম শেষ হয়।