ধর্ষণ মামলায় চমকপ্রদ রায়, ৫ আসামি খালাস; অভিযোগকারীই আসামি

পঞ্চগড় সংবাদদাতা

সারাদেশ

পঞ্চগড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

2026-08-24T15:58:51+00:00
2026-08-24T15:58:51+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ধর্ষণ মামলায় চমকপ্রদ রায়, ৫ আসামি খালাস; অভিযোগকারীই আসামি
পঞ্চগড় সংবাদদাতা
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম 
ধর্ষণ মামলায় চমকপ্রদ রায়, ৫ আসামি খালাস; অভিযোগকারীই আসামি
পঞ্চগড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরুর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী পঞ্চগড় সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাঁকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে যান আসামিরা। এ সময় তাঁর দুই বছরের শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয় এবং পরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে তদন্তে মামলার অভিযোগের সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারী নারীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনার সঙ্গে পাঁচ আসামির কারও ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়নি।

বরং ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়।

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাঁদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।

পরে সাক্ষীদের বক্তব্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদনসহ মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা। তাঁদের দাবি, আইবুল হক ও ওই নারীর সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাঁদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা সাজানো হয়েছিল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে তাঁরা আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার নথিপত্র, পুলিশ প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। বিচার-বিশ্লেষণের পর আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত।

তাঁর মতে, এ রায়ের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধেও একটি আইনি বার্তা দেওয়া হয়েছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: