খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্যান খুলে পড়ে আহত হয়েছে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ৪৭ নম্বর হাউলী-প্রতাপকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আফিয়া ইভনাত আলভী। সে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং আঃ কুদ্দুস খানের মেয়ে। তার বাবা পেশায় ইজিবাইকচালক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছিল। এ সময় হঠাৎ ফ্যানের রডের সংযোগস্থল খুলে সেটি নিচে থাকা একটি বেঞ্চের ওপর পড়ে। ফ্যানের পাখা আফিয়ার নাক ও মুখে আঘাত করলে তার মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই শিক্ষকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রাইভেট কারে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিনাকী সাধু বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এর আগে ফ্যানটিতে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। ফ্যানের রডের সংযোগস্থল খুলে গিয়ে সেটি বেঞ্চের ওপর পড়ে। এ সময় ফ্যানের পাখা শিক্ষার্থীর নাক ও মুখে লাগে।’
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, শুধু দুর্ঘটনাকবলিত ফ্যান নয়, বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, কোনো সরঞ্জাম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তা মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আহত আফিয়া ইভনাত আলভীর দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।