নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমলেও আগস্ট মাসে জেলার দুটি হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৯ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে পুরুষ ওয়ার্ডে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মহিলা ওয়ার্ডে একই সময়ে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ৪৪ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ছয়জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়া শিশু ওয়ার্ডে আগস্ট মাসে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে। বর্তমানে একজন শিশু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সব মিলিয়ে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে আগস্ট মাসে ১৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৯ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুই হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৯ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ৫১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান বলেন, জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হলেও বর্তমানে তা আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।