রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনের একটি অজানা অধ্যায় সামনে এসেছে। জনপ্রিয় নির্মাতা, প্রযোজক, কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার ছটকু আহমেদ জানিয়েছেন, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে নাটকের মঞ্চে অভিনয় করতেন মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি আবৃত্তিতেও ছিল তাঁর দক্ষতা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে পুরোনো দিনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন ছটকু আহমেদ। দীর্ঘ স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেন প্রায় পাঁচ দশক আগের নানা ঘটনা।
ছটকু আহমেদ জানান, ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে ঠাকুরগাঁও ইরিগেশন বিভাগে সরকারি চাকরি করার সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সে সময় দুজনই ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বিকেলে পাবলিক লাইব্রেরিতে আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে তাদের সময় কাটত।
নাটকের মঞ্চে নায়ক ছিলেন মির্জা ফখরুল
স্মৃতিচারণে ছটকু আহমেদ জানান, সে সময় মির্জা ফখরুল নাটকের মঞ্চে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল ভরাট এবং আবৃত্তিতেও তিনি ছিলেন পারদর্শী।
ছটকুর ভাষ্য অনুযায়ী, মঞ্চে মির্জা ফখরুলের অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়াত এবং তাঁর অভিনয়ের সময় হলজুড়ে হাততালি পড়ে যেত।
ঢাকা থেকে অভিনেত্রী আনোয়ারার ছোট বোন নার্গিসকে নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বলাকা সিনেমা হলে নাটক করার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন তিনি। সে সময় নার্গিস নাটকের নায়িকা ছিলেন এবং পরে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।
চাকরি থেকে রাজনীতির পথ
পরবর্তী সময়ে চাকরির কারণে ছটকু আহমেদ ঠাকুরগাঁও ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। দীর্ঘ সময় পর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আবার দেখা হয় তাঁর। তখন জানতে পারেন, তাঁর পুরোনো পরিচিত ‘আলমগীর সাহেব’ মন্ত্রী হয়েছেন।
এরপর জিয়া শিশু একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে তাদের আবার দেখা হয়। ততদিনে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব। সেই অনুষ্ঠানে ছটকু আহমেদকে সামনে দেখে মঞ্চে ডেকে নেন তিনি এবং বিশেষ সম্মাননা হিসেবে কমল পদক তুলে দেন বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন নির্মাতা।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও নাট্যসমিতির আয়োজনে ‘এই লভিনূ সঙ্গ তব’ অনুষ্ঠানে নিজের নাট্যজীবনের স্মৃতিচারণের সময় মির্জা ফখরুল তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন বলেও জানান ছটকু আহমেদ।
রাষ্ট্রপতি হওয়ায় অভিনন্দন
দীর্ঘদিনের পরিচিত মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় আবেগঘন অভিনন্দন জানিয়েছেন ছটকু আহমেদ। তিনি মির্জা ফখরুলকে মানবিক ও সংস্কৃতিমনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।
ছটকু আহমেদের এই স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের বাইরের একটি ভিন্ন পরিচয় সামনে এসেছে—যেখানে তিনি ছিলেন নাটকের মঞ্চের অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী। দীর্ঘদিনের সেই সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের স্মৃতিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর।