
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এ রায় দেন।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) গ্রামে জমির আইল উঠানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয়। আসামিরা জমির আইল উঠাতে গেলে নিহত শাহাদাৎ হোসেন ও তার স্বজনরা বাধা দেন। এ সময় আসামিদের কোদাল ও লাঠির আঘাতে শাহাদাৎ হোসেন, সাজেদা বেগম, সামছুল হক ও আবেদা বেগম গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শাহাদাৎ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আতাউর রহমান ওই দিনই সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হালিম (৩৯), হামিদ (৩৭) ও মাহাবুব (৩৫)। তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারির ছেলে এবং তিনজনই সহোদর।
আদালতের জিআরও সুব্রত এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এছাড়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজানও রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।