
গতকাল মঙ্গলবার শ্বশুরসহ ছয়জনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মাসুদ রানা। তিনি উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের রায়পুর কুস্তা পোতাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিবাদীরা হলেন- মাসুদ রানার শ্বশুর উপজেলার গোছাইল গ্রামের আব্দুর রউফ, জান্নাতি খাতুন, রায়পুর কুস্তা গ্রামের মুর্তজা সরদার, মোকারম হোসেন, হাদিউর রহমান ও চারালদীঘির আব্দুল কুদ্দুস।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর কুস্তা পোতাপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে মাসুদ রানার সঙ্গে পাঁচ বছর আগে গোছাইল গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে রাহিমা খাতুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সম্প্রতি স্বামী মাসুদ রানার সঙ্গে ঝগড়া হলে স্ত্রী রাহিমা বাবার বাড়িতে চলে যান। এ নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়।
ঘটনার দিন সোমবার মাসুদ রানার বাড়িতে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বারান্দায় রাখা গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে নারীসহ কয়েকজন আহত হন। মাসুদ রানার মাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা, তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও একটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিবাদী শ্বশুর আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমার গরু আমি এনেছি। মেয়ের বিয়ের পর তাদের সংসারে সচ্ছলতার জন্য এই গরুটি দিয়েছিলাম। সন্তান না হওয়ায় জামাইসহ তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। আমরা কারও ওপর হামলা করিনি, স্বর্ণের চেইনও নেওয়া হয়নি। উল্টো তারাই আমাদের ওপর হামলা করেছে।’
এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, ‘কন্যা বাবার বাড়িতে আছে, শুনেছি। ঘটনার দিন জামাইয়ের বাড়িতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন গিয়েছিল। মারপিট ও গরু নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’