চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান মহাসড়কের দক্ষিণ চট্টগ্রাম অংশে চলাচলকারী যানবাহনের মালিক ও চালকদের কাছ থেকে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ্ উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ওসি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওসি সালাহ্ উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর চন্দনাইশের মোজাফফরাবাদ থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন নিয়ে চালকদের হয়রানি করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকার সুযোগ নিয়ে মামলা ও গাড়ি আটকের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।
চালক ও পরিবহন মালিকদের কয়েকজনের দাবি, সিএনজি অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, মিনিবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে টাকা নেওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরাসরি নগদ লেনদেন এড়াতে নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয়। যারা টাকা দিতে রাজি হন না, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক বলেন, মহাসড়কে গাড়ি নিয়ে বের হলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়। নিয়মিত টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা কিংবা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
বাজালিয়া ইউনিয়নের চালক মো. হানিফ অভিযোগ করে বলেন, গাছ নিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, মামলা করা এবং গাড়ি নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই তাদের টাকা দিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন মালিকরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ্ উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এবং আমার থানার কোনো পুলিশ সদস্য কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে মহাসড়কে কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।