খাগড়াছড়ি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্যের’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সারাদেশ

খাগড়াছড়ি জেলা সংবাদদাতা: খাগড়াছড়ি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র খাঁর বিরুদ্ধে কমিশন গ্রহণ, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন

2026-08-15T20:10:25+00:00
2026-08-15T20:10:25+00:00
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
খাগড়াছড়ি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্যের’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
খাগড়াছড়ি জেলা সংবাদদাতা: খাগড়াছড়ি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র খাঁর বিরুদ্ধে কমিশন গ্রহণ, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাঁচামাল ক্রয়, প্রশিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণার্থীদের উপকরণ ও সম্মানী ভাতা বিতরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ট্রেড কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিম্নমানের এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ কাঁচামাল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি চারটি পদে প্রশিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ শেষে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ জব প্লেসমেন্ট পদে একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বরাদ্দ গেঞ্জি, ব্যাগ, খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ সময়মতো বিতরণ না করা এবং নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করেন, তাদের জন্য বরাদ্দ সম্মানী ভাতা যথাসময়ে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তির সময় অর্থ নেওয়া এবং কোর্স শেষে পরীক্ষায় পাস বা ভালো গ্রেডের সার্টিফিকেটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ট্রেডে ব্যবহৃত কাঁচামাল ক্রয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডে তার, সকেট ও মিটার; ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশনিং ট্রেডে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ; ওয়েল্ডিং ট্রেডে রড, গ্যাস ও সিলিন্ডার; ড্রাইভিং ট্রেডে জ্বালানি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং কম্পিউটার ট্রেডে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া ফুড মেকার ট্রেডের খাদ্যসামগ্রী এবং সুইং ট্রেডের বোতাম, সুতা, কাপড় ও জিপারসহ বিভিন্ন কাঁচামাল কেনাকাটায় কম পরিমাণে সরবরাহ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নারায়ণ চন্দ্র খাঁ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বরাদ্দ থাকার পরও দুই মাসের বেশি সময় পর্যাপ্ত কাঁচামাল ছাড়াই নামমাত্র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীরা কাঁচামাল ছাড়া চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে দুই থেকে তিন দফা পরীক্ষা বর্জন করে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর প্রশিক্ষণার্থীদের বুঝিয়ে কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে তারা জানান।

এদিকে নারায়ণ চন্দ্র খাঁর পূর্বের কর্মস্থল বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি), নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র খাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কাঁচামালের কিছুটা কমবেশি হতে পারে, তবে তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতি করেননি। চাকরিজীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো রেকর্ড নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চাকরিজীবনের শেষ সময়ে কোনো ধরনের কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে তিনি অবসরে যেতে চান না।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীরা বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল ক্রয়, নিয়োগ, ভাতা বিতরণ ও কথিত ঘুষ লেনদেনের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: