ভ্যাপসা গরমে পর্যটকশূন্য তিস্তা ব্যারেজ, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

নীলফামারী সংবাদদাতা

সারাদেশ

কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজসংলগ্ন পর্যটন এলাকা। বছরের অধিকাংশ সময় যেখানে পর্যটকদের

2026-08-15T18:36:24+00:00
2026-08-15T18:36:24+00:00
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
ভ্যাপসা গরমে পর্যটকশূন্য তিস্তা ব্যারেজ, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
নীলফামারী সংবাদদাতা
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজসংলগ্ন পর্যটন এলাকা। বছরের অধিকাংশ সময় যেখানে পর্যটকদের পদচারণা, স্পিডবোটের ছুটে চলা এবং নানা আয়োজন ঘিরে সরব থাকে তিস্তার তীর, সেখানে এখন অনেকটাই নীরবতা। পর্যটক কমে যাওয়ায় স্পিডবোটচালক, ফুচকা বিক্রেতা, বেলুন বিক্রেতা, ফটোগ্রাফার ও ভ্যানচালকদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।

তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে নদীর স্রোত উপভোগ ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়মিত পর্যটকেরা আসেন। কয়েক ডজন স্পিডবোটে চড়ে নদীতে ঘোরাঘুরি করেন তারা। নদীর তীরে থাকা ফুচকা, চটপটি ও বিভিন্ন খাবারের দোকানেও থাকে ভিড়। কিন্তু সাম্প্রতিক তীব্র ভ্যাপসা গরমে বদলে গেছে সেই চিত্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরে সারি সারি স্পিডবোট পড়ে আছে। তবে যাত্রী নেই বললেই চলে। ফুচকা ও খাবারের দোকানগুলোতেও নেই ক্রেতার আনাগোনা। পর্যটকের অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা।

ফুচকা ব্যবসায়ী মনোয়ার আলী (৪৫) বলেন, তাঁর পরিবারে পাঁচ সদস্য। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড গরমের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে আয় বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

পর্যটকের আশায় নদীর তীরে প্রতিদিন ক্যামেরা নিয়ে বসে থাকছেন স্থানীয় ফটোগ্রাফাররাও। প্রায় ছয়-সাতজন তরুণ ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করলেও পর্যটক না থাকায় তাদের আয়ও বন্ধ।

স্থানীয় ফটোগ্রাফার সোহেল আহমেদ (২৫) বলেন, বাড়ি কাছেই হওয়ায় প্রতিদিন ক্যামেরা নিয়ে নদীর তীরে আসেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে কোনো পর্যটক ছবি তুলতে আসেননি। প্রায় ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি রিকন্ডিশন্ড ক্যামেরা কিনেছেন বলেও জানান তিনি।

বেলুন বিক্রেতা ডালিয়া গ্রামের কিশোর মুরশেদুল (১২) জানায়, অতিরিক্ত গরমের কারণে পর্যটক না থাকায় কয়েক দিনে মাত্র ১৫টি বেলুন বিক্রি করতে পেরেছে।

একই পরিস্থিতি ভ্যানচালকদেরও। ডালিয়া-দেওয়ানী সড়কের ভ্যানচালক রহিম উদ্দিন (৫৫) বলেন, পর্যটক কমে যাওয়ায় যাত্রীও কমেছে। এতে আগের তুলনায় আয়-রোজগার অনেকটাই কমে গেছে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, তাপমাত্রার তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকা এবং মেঘলা আকাশের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা ব্যারেজসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিতই ভ্রমণপিপাসু মানুষের সমাগম হয়। কেউ লাইফ জ্যাকেট পরে নদীতে নামেন, আবার কেউ স্পিডবোটে ঘোরেন। স্থানীয় বেকার যুবকেরাও এসব বিনোদনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তবে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে মাঝেমধ্যে এসব আয়োজন উচ্ছেদ করা হয়।

অতিরিক্ত ভ্যাপসা গরমে পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় শুধু তিস্তা ব্যারেজের পর্যটন এলাকার স্বাভাবিক কোলাহলই কমেনি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এর ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কর্মজীবী মানুষও। আয় কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: