গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধানের চারা রোপণের কাজ। তবে চারা উৎপাদন না করা নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকার কৃষকেরা এবার চারা সংকটে পড়েছেন। অন্যদিকে, উঁচু এলাকার কৃষকদের উদ্বৃত্ত চারা হাটে উঠলেও চাহিদা বেশি থাকায় তা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এতে আমন চাষের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় হাট-বাজারে বর্তমানে প্রতি পোন (২০ গোন্ডা) আমন ধানের চারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
সম্প্রতি পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী, মাঠের বাজার, আমলাগাছি, কিশোরগাড়ী ও চরের হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা বস্তাভর্তি ও ভ্যানযোগে আমন ধানের চারা এনে বিক্রি করছেন। ক্রেতারাও পছন্দের জাত ও মান যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী চারা কিনছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার সুযোগ নিয়ে কিছু দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চারা কেনাবেচায় যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ফলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে চারা কেনার তুলনায় তাদের বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার প্রায় ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর বীজতলা থেকে উৎপাদিত চারার মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষক নিজেরা বীজতলা তৈরি করেন না। তারা সাধারণত উঁচু এলাকার কৃষকদের উদ্বৃত্ত চারা কিনে জমিতে রোপণ করেন। এ কারণে এ বছর এসব এলাকার কৃষকদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হাটে চারার দামও বেড়েছে।
মাঠের হাটের চারা বিক্রেতা আব্দুল বলেন, নিজের জমিতে চারা রোপণের পর অতিরিক্ত ছয় পোন চারা হাটে বিক্রি করেছেন। প্রতিপোন চারা বিক্রি করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। তবে হাটে চারা বিক্রির জন্য ইজারাদারকে প্রতিপোনে ২৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কিশোরগাড়ীর চর এলাকার কৃষক সাজেদুল হক বলেন, এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা নিজেরা কখনো চারা উৎপাদন করেন না, উঁচু এলাকার কৃষকদের কাছ থেকেই চারা কিনে আবাদ করেন। কিন্তু এবার প্রতি পোন চারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। চারার দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদের খরচও বেড়ে গেছে।
কৃষক খাজা মিয়া জানান, নিজের জমি না থাকায় প্রতিবেশীর দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। ওই জমিতে আমন চাষের জন্য প্রায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে চারা কিনেছেন। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচ যোগ হওয়ায় আবাদ করে লাভ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল বলেন, এ বছর নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি থাকায় হাটে আমন ধানের চারা তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে ও ভালো ফলন নিশ্চিত করতে চলতি মৌসুমে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।