জলাশয়ের সংকটে পাইকগাছায় পাট জাগ দিতে পারছেন না কৃষক

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

খুলনার পাইকগাছায় পর্যাপ্ত জলাশয় ও পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। ডোবা, নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে

2026-08-15T17:54:53+00:00
2026-08-15T17:54:53+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
জলাশয়ের সংকটে পাইকগাছায় পাট জাগ দিতে পারছেন না কৃষক
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
খুলনার পাইকগাছায় পর্যাপ্ত জলাশয় ও পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। ডোবা, নালা, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বর্ষা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। ফলে পাট কাটার উপযুক্ত সময় হলেও অনেক কৃষক সময়মতো জাগ দিতে পারছেন না।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ডোবা, পুকুর ও খাল শুকিয়ে যাওয়া বা ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অনাবৃষ্টি। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতেও পর্যাপ্ত পানি নেই।

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পাইকগাছার নদী ও খালের অনেক স্থানের পানি লবণাক্ত। এ পানি পাট জাগ দেওয়ার জন্য উপযোগী নয়। লবণাক্ত পানিতে জাগ দিলে আঁশের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাধ্য হয়ে কৃষকদের কয়েক কিলোমিটার দূরের গভীর জলাশয়ে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। কেউ নছিমন, কেউ ভ্যান আবার কেউ মাথায় করে পাট বহন করছেন। এতে বেড়ে যাচ্ছে শ্রম ও পরিবহন খরচ।

সময়মতো পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে না পারায় পাটের স্বাভাবিক সোনালি রং ও আঁশের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আবার জাগ দেওয়ার জায়গা না পেয়ে অনেকে পাট কাটতে দেরি করছেন। এতে ক্ষেতেই পাটগাছ শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় ২৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌর এলাকায় পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। এ বছর পাটগাছ বেশ ভালো হয়েছে এবং আঁশও মোটা হয়েছে। তবে যথাসময়ে জাগ দিতে না পারলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

হিতামপুর ব্লকের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, জলাশয়ের অভাবে পাট কেটে ক্ষেতের নিচু জায়গায় জাগ দিয়েছি। কিন্তু পাটের আঁটি পুরোপুরি পানির নিচে ডুবছে না। এক পাশ পচলে অন্য পাশ উল্টে দিতে হবে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে।

জলাশয়ের সংকট মোকাবিলায় কৃষি কর্মকর্তারা কম পানিতে পাট জাগ দেওয়ার আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে রিবন রেটিং পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কাঁচা পাটগাছ থেকে প্রথমে ছাল ছাড়িয়ে তা গোল করে বেঁধে বড় ড্রাম বা চাড়িতে অল্প পানি দিয়ে পচানো যায়। এতে পানির ব্যবহার কমে এবং আঁশের মানও ভালো থাকে।

এ ছাড়া প্লাস্টিক শিট বা পলিথিন বিছিয়ে কৃত্রিম ছোট গর্ত তৈরি করে শ্যালো মেশিনের পানি ব্যবহার করেও পাট জাগ দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকদের মতে, প্রতি বছর পাট জাগ দেওয়ার মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত স্থানীয় খাল-বিল ও সরকারি খাস জলাশয়গুলো পুনঃখনন করা হলে পাট জাগ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষির অন্যান্য কাজেও পানির সংকট অনেকটাই কমবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: