নরসিংদীর পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাল খাজনার দাখিলা ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় রিফাত মোল্লা (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নিজেকে ‘সিভিল কোর্ট কমিশনার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আটক রিফাত মোল্লা শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান রিফাত। এ সময় তাঁর জমা দেওয়া খাজনার দাখিলা রশিদ দেখে সন্দেহ হয় সাব-রেজিস্টার মো. মিজানুর রহমানের। পরে তিনি বিষয়টি পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খানকে জানান।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে দাখিলাটি জাল বলে প্রমাণিত হয়। এরপর রিফাতকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমির খাজনা পরিশোধের কথা বলে ভুক্তভোগী স্বপন মিয়ার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেন রিফাত। তবে তিনি ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া খাজনার দাখিলা তৈরি করেন এবং সেটি দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আমেনা বেগম বাদী হয়ে রিফাত মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ১৩ আগস্ট পলাশ থানায় দায়ের করা মামলাটিতে জাল-জালিয়াতি ও ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খান বলেন, সাব-রেজিস্টারের সন্দেহের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভূমি-সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।