হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে শ্রমিক ও মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনটি সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বানিয়াচং, হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে চলাচল করছেন তারা।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লাইন মেইনটেন্যান্স নিয়ে বানিয়াচং উপজেলার গ্যানিংগঞ্জ বাজার ও বড়বাজার সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর পাশাপাশি বানিয়াচংয়ের দুই সমিতির সঙ্গে জেলা শহর হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলার মালিক সমিতিগুলোর সম্পর্কেও টানাপোড়েন রয়েছে।
লাইন মেইনটেন্যান্স নিয়ে বিভিন্ন সমিতির চালকদের মধ্যে এর আগে একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এ বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করলে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ, বানিয়াচং-নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এতে চার উপজেলার কলেজশিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পরিবহনে যাতায়াত করছেন।
সমস্যা সমাধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চার উপজেলার সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে বিরোধ মেটাতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতারা।
মালিক সমিতির নেতারা জানান, দ্রুত বিরোধের সমাধান করে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, ‘বিরোধটি শুধু বানিয়াচং উপজেলা কেন্দ্রিক নয়, জেলা ও অন্যান্য উপজেলার সঙ্গেও এ বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে প্রতিটি এলাকার দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।’
তিনি আরও জানান, বিরোধ নিরসনে বানিয়াচং সিএনজি মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।