ফরিদপুরের সদরপুরে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ‘এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার ফর ওমেন (ইসিডব্লিউ)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ঋণ নিতে এসে অফিসে তালা ঝুলতে দেখে বিপাকে পড়েছেন অন্তত ১৫-১৬ জন গ্রাহক।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের গ্রাহক মো. মুস্তাকিম হাওলাদার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক নারীসহ চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ইসিডব্লিউ এনজিওর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া এলাকার সৌদি প্রবাসী শিহাব বেপারীর তিনতলা ভবনের নিচতলা ভাড়া নেন। এরপর তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহক সংগ্রহ শুরু করেন।
ঋণ দেওয়ার আগে প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় হিসেবে জমা নেওয়া হয়। বুধবার গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ঋণ নিতে এসে তারা অফিসে তালা ঝুলতে দেখেন। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসের সামনে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা প্রায় ১৫-১৬ জন নারী-পুরুষ অবস্থান করছেন। তারা জানান, ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে।
ঢেউখালী ইউনিয়নের দুর্জয় খার ডাঙ্গী গ্রামের গ্রাহক জোসনা বেগম (৩৫) বলেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। বুধবার আমাকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা দেওয়ার জন্য ধার করে সঞ্চয়ের টাকা জোগাড় করেছিলাম।’
ভাষাণচর ইউনিয়নের হাওলাদার ডাঙ্গী গ্রামের সাহিনুর বেগম (৩০) বলেন, ‘আমি ১৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। ঋণ দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এখন অফিস বন্ধ।’
ঢেউখালী ইউনিয়নের দশ হাজার গ্রামের মরিয়ম বেগম (২৮) বলেন, ‘আমি ৫২ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। ঋণ নিতে এসে দেখি অফিসে তালা।’
এদিকে ভবনের মালিক শিহাব বেপারীর স্ত্রী জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক নারীসহ পাঁচজন নিজেদের ইসিডব্লিউ এনজিওর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভবনের নিচতলা ভাড়া নিতে আসেন। ভাড়া দেওয়ার আগে তিনি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চান। তারা জানান, শুক্রবার ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে অফিস উদ্বোধন করবেন এবং তখন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অগ্রিম ভাড়ার টাকা দেওয়া হবে।
তবে এর আগেই বুধবার সকালে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তিরা অফিসে তালা দিয়ে চলে গেছেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় একজন গ্রাহক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।