হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শোকজ নোটিশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ভোরের ডাকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দীনের সই করা ৪ আগস্টের শোকজ নোটিশ সূত্রে জানা যায়, শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, সরকারি চাকরির বিধিবিধান লঙ্ঘন, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় একতরফাভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২৫৫ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় বাকি চারজন শিক্ষকই অধিকাংশ সময় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে শোকজ নোটিশের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শারমিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে তার স্বামী জাহিদ হুমকিমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন কারণে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চান না।
অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ‘জিরুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আগেই শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তিনি জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।