নওগাঁর মহাদেবপুরে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় হাঁসের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও এখনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাদেবপুর মধ্যবাজারের বাসিন্দা মৃত আমির মন্ডলের ছেলে মো. ইভান মন্ডল কিছুদিন আগে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের বিলমোহাম্মদপুর গ্রামে আবাসিক এলাকায় হাঁসের খামারটি গড়ে তোলেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামার হওয়ায় সেখান থেকে নিয়মিত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এতে এলাকার পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়রা জানান, খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মালিককে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় আবাসিক এলাকা থেকে খামারটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খামারের মালিক ইভান মন্ডল বলেন, ‘হাঁসগুলো আগে মাঠেই থাকত। সম্প্রতি খামারে নিয়ে আসা হয়েছে। খামারের প্রাচীর না থাকায় কিছুটা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এখন রাস্তার পাশে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আর কোনো সমস্যা নেই।’
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রব্বানী বলেন, খামারটিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে একটি ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি বর্তমানে থানা-পুলিশ তদন্ত করছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও থানার ওসি কাজ করছেন। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় বা জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে—এমন কোনো বিষয় থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।