এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমি অনুভব করতে পারি, এই সময়টা তোমাদের জন্য কত কষ্টকর। আমি নিজেও তোমাদের এই কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি।’
সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরদিন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে এ বার্তা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় শিক্ষার্থীরা, যারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারোনি, আজ তোমাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলতে চাই। আমি জানি, আজকের দিনটি তোমাদের জন্য খুবই বেদনার আর হতাশার।’
তিনি বলেন, বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা এবং নিজের ভেতরের অস্বস্তি—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে হতে পারে সবকিছু থেমে গেছে। তবে বাস্তবে কিছুই থেমে যায়নি। একটি পরীক্ষার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় নির্ধারণ করে না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনে কয়েক ঘণ্টার খাতায় লেখার হিসাবই কেবল ফলাফলে প্রতিফলিত হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কোনো নম্বর হয় না।
অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা, সহপাঠীদের উপেক্ষা-সব মিলিয়ে তোমাদের ওপর হয়তো এক গভীর হতাশা ভর করেছে।’
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী হয়তো ফলাফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে। এই মুহূর্তে কঠিন কথা, উপেক্ষা বা ভর্ৎসনার চেয়ে সন্তানের প্রয়োজন আদর, স্নেহ ও সহমর্মিতা।
তিনি বলেন, ‘ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তারা কেন পিছিয়ে পড়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবারও দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি। একসময় দেখবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, জীবনে সফল হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা একদিন পেছনে ফিরে তাকালে আজকের হতাশাকে অপ্রয়োজনীয় মনে হবে। তাদের ওপর আস্থা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা একদিন দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের পাশে আছে, ছিল এবং থাকবে।