কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১১১ জন নিহত এবং অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের তালিকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের নাম যুক্ত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
পশ্চিম কলম্বিয়ার কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও প্রায় ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া স্থাপনাগুলোর নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন। জীবিতদের উদ্ধারে সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল রিসারালদায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটির রাজধানী পেরেইরাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ভ্যালে দেল কাউকা অঞ্চলে তিন শিশুসহ অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পেতে দেশটির ডিজিটাল ডেটাবেসে তথ্য নিবন্ধন শুরু করেছেন স্বজনরা। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য জমা পড়ে। তাদের বেশিরভাগই কালি ও পেরেইরা এলাকার বাসিন্দা। তবে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেরেইরা বিমানবন্দরের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি ও ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ যাত্রীদের ওপর ধসে পড়তে দেখা যায়। একই এলাকায় একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়াজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করতে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার বিমানবন্দর রয়েছে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী।
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ভূকম্পবিদ সুজান ভ্যান ডার লির মতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি গভীরে হলেও এর শক্তিশালী মাত্রা, স্থলভাগের অবস্থান এবং ভূকম্পনের ধরন জনবহুল এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। গভীরতার কারণে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলক কম হওয়ার কথা থাকলেও ভূমিকম্পটির মাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা