রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা বাড়তে থাকায় এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ায় তৈরি বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে। গত জুলাইয়ে তিনি ইউক্রেনে প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়াতে চাইছে। রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পাওয়ার পাশাপাশি পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতাও অর্জন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট?
চলতি মাসে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। ইউনিটটিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এসব সেনার মধ্যে কয়েক হাজার নিহত বা আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ছাড়া উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে বলে ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি এবং একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে কী চাইলেন জেলেনস্কি?
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন এমন কিছু ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা পেতে আগ্রহী, যেখানে তাদের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার বিষয়ে সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কিয়েভ।
তিনি বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ড্রোন চুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তি এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের কূটনীতিকরা সিউলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতি থাকায় রাশিয়া আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হওয়ায় প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে তুরস্কের মাধ্যমে ইউক্রেনের কাছে বিভিন্ন মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্যাকেজে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং দুই হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা রয়েছে। তবে এসব অস্ত্র পুনরায় বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন।