যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।
৩৬ বছর বয়সী এই কংগ্রেস সদস্য রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। একটি ভিডিওতে তাকে ইনজেকশন নিতেও দেখা যায়।
পরে এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক করতে চান। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওকাসিও-কর্টেজের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যসেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গর্ভপাতের অধিকার থেকে শুরু করে নিরাপদে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার সুযোগ—এসব বিষয় নিয়ে নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।
ডিম্বাণু সংরক্ষণের খরচ, চিকিৎসা পদ্ধতি ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কি প্রার্থী হবেন?
সম্প্রতি একটি জনমত জরিপে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ওকাসিও-কর্টেজের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি।
তিনি বলেন, আপাতত তার মনোযোগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে থাকার দিকে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন।
ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, বাইরে থেকে পাওয়া বিপুল সমর্থনে তিনি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। তবে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চেয়ে বর্তমানে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিনেট নির্বাচনে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের বিরুদ্ধে লড়ার সম্ভাবনা নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হলে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ‘সবকিছুই সম্ভব।’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে ভোট হওয়ার পাশাপাশি সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনেও নির্বাচন হবে।