কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নোয়াখালী। জেলায় এবার গড় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা কুমিল্লা বোর্ডের সার্বিক পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশের চেয়ে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
তবে নোয়াখালীতে পাসের হার ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ-দুই দিক থেকেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার জেলায় ১০ হাজার ৩৫৭ জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ হাজার ৮ জন। অন্যদিকে ১৪ হাজার ৭২৬ জন মেয়ের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৩৮ জন।
ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালীতে এবার মোট ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
গত বছর নোয়াখালীতে পাসের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সে তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে। তবে কুমিল্লা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে সামগ্রিক পাসের হারে নোয়াখালী এবারও সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে এগিয়ে কোম্পানীগঞ্জ
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে নোয়াখালীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে কোম্পানীগঞ্জ। এ উপজেলায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে হাতিয়া উপজেলা। সেখানে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা। এ উপজেলার শিক্ষার্থীরা পেয়েছে সর্বোচ্চ ৬৩০টি জিপিএ-৫।
বোর্ডের সার্বিক ফল
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে। ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, আর মেয়েদের ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এবার কুমিল্লা বোর্ডে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে এবং ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৫০ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এবার কুমিল্লা বোর্ডে ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২টি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নোয়াখালীর কয়েকটি উপজেলায় গণিত ও ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা এবং অনুন্নত অঞ্চলে মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি জেলার সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।