দেশের জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ২০ কোটি জনগণের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের সমর্থনে গঠিত এই সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়ী বহুমুখী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারের বড় পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামে চীনকে বড় একটি জায়গা দিয়েছি। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সেখান থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাতারবাড়ী যাওয়ার সময় মীরসরাই থেকে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টার থেকে দেখেছি। বিশাল সমুদ্রের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে কীভাবে মানুষের জীবনমান উন্নত করা যায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে তা সফলভাবে শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং আগামী চার বছর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘ভাইদের পাশাপাশি বোনেরাও যাতে সংসারের হাল ধরতে পারেন, একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারেন এবং সন্তানদের লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন—সেটিই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে শিগগিরই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত শান্তি-শৃঙ্খলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারে গণ্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা চান, বন্দর থেকে যেন সঠিকভাবে কাঁচামাল আসতে পারে। তাই শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তারা মূলত জনগণের স্বার্থ ও দেশের ক্ষতি করতে চায়।’
তিনি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে বাঁশখালীর ১০০টি গৃহহীন পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি এবং দুস্থ নারীদের মধ্যে চাল বিতরণ করেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।
বাঁশখালী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আজ দিনব্যাপী বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঁশখালী থেকে তিনি হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির নাজিরহাট বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং হেফাজত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এরপর হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন। পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির তৃণমূল এবং মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।