
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাখাই উপজেলার বামৈ পূর্বগ্রামে লেচু বিবি খুনের মামলায় এসিআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল মামলার প্রধান আসামি। মামলা রুজুর পর থেকে পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তিনি পলাতক থাকা সত্ত্বেও ওই বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমার জানা মতে, খুনের মামলা রেকর্ড হওয়ার পর থেকে তাকে বিদ্যালয়ে আসতে দেখিনি। কিন্তু তিনি কীভাবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে আসছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনিই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
ওই বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শুনেছি তিনি খুনের মামলার আসামি। তবে তিনি আমার কাছ থেকে ছয় দিনের ছুটি নিয়েছেন। আমি ঢাকায় আছি। বাড়িতে এলে কী করা যায়, তা দেখব।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে লিখিতভাবে জানালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার জন্য চিঠির ব্যবস্থা করা হবে।’
হবিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজমিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়নাল হোসেন খান বলেন, ‘আমি মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর থেকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে প্রধান আসামি আব্দুল জলিল মাস্টারকে তার বিদ্যালয়ে একাধিকবার গিয়ে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি।’
এদিকে মামলার বাদীপক্ষ অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে পুলিশের ওপর দিন দিন আমাদের আস্থা হারিয়ে ফেলছি।