সিলেটে জমি বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জমির দখল ও রেজিস্ট্রি না পেয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেজরটিলা এলাকার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা জানাল আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজনের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চুক্তি করে অর্থ গ্রহণ করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও জমির দখল বা সাফ-কবলা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হচ্ছে না; বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মনসুর আলম চৌধুরী অভিযোগ করেন, একটি জমি কেনার জন্য ৬ লাখ টাকায় চুক্তি করে তিনি বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে এবং জমিটি সরকারি ভূমি বলে দাবি ওঠে।
তিনি আরও জানান, আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাননি। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির পাশাপাশি ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতনের মতো বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা জানান, তারা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। শাহপরান (রহ.) থানা থেকেও একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে অভিযুক্তরা নোটিশের পরও উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও সাধারণ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।