অবিশ্বাস্য! পুরো গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ১২, আছে শুধু দুটি পরিবার

শেরপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

যেখানে একটি গ্রামের পরিচয় গড়ে ওঠে শত শত মানুষের বসবাসে, সেখানে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজারামকুড়া যেন এক ব্যতিক্রম। ১০৭ একর

2026-08-07T17:36:25+00:00
2026-08-07T17:36:25+00:00
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
অবিশ্বাস্য! পুরো গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ১২, আছে শুধু দুটি পরিবার
শেরপুর সংবাদদাতা
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম 
উঠানে ধান শুকাচ্ছেন গৃহিণী। সংগৃহীত ছবি
যেখানে একটি গ্রামের পরিচয় গড়ে ওঠে শত শত মানুষের বসবাসে, সেখানে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজারামকুড়া যেন এক ব্যতিক্রম। ১০৭ একর আয়তনের এই গ্রামে বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন মাত্র ১২ জন—দুটি পরিবারের সদস্যরা। একসময় ঘন বন আর বন্য প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত গ্রামটি এখন বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ আর নীরবতায় ঘেরা। স্থানীয়দের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা ও খালের সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বদলে যেতে পারে এই প্রায় জনশূন্য গ্রামের চিত্র।

সীমান্তবর্তী রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের একটি ছোট্ট গ্রাম। ১৪টি গ্রামের এই ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৪৪১ হলেও ১০৭ একর আয়তনের রাজারামকুড়া গ্রামে স্থায়ী বাসিন্দা রয়েছেন মাত্র ১২ জন। জেলার সবচেয়ে ছোট গ্রামগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত গ্রামটিতে রয়েছে মাত্র দুটি পরিবার।

গ্রামের পূর্ব পাশে বসবাস করেন গ্রাম পুলিশ নুর ইসলাম এবং পশ্চিম পাশে কৃষক আব্দুল লতিফের পরিবার। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি পরিবারের সদস্যরাই রাজারামকুড়ার একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা। চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থাকলেও দিনের বেশির ভাগ সময় গ্রামটি থাকে নির্জন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় রাজারামকুড়া ছিল ঘন বন-জঙ্গলে ঘেরা। সেখানে হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর বিচরণ ছিল। সময়ের সঙ্গে বন উজাড়, জনবসতির পরিবর্তন এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে সেই চিত্র এখন অতীত। বনভূমির জায়গা দখল করেছে ফসলের মাঠ, আর মানুষের সংখ্যাও কমে এসেছে।

গ্রামে রয়েছে রাজারামকুড়া নামে একটি খাল, একটি সড়ক এবং সরকারি সামাজিক বনায়নের একটি বাগান। তবে দীর্ঘদিন ধরে খাল ও সড়কের সংস্কার না হওয়ায় যাতায়াত এবং কৃষিকাজে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।

গ্রাম পুলিশ নুর ইসলাম বলেন, একসময় এখানে আরও কয়েকটি পরিবার ছিল। ধীরে ধীরে অনেকে অন্যত্র চলে যাওয়ায় এখন মাত্র দুটি পরিবার রয়েছে। শান্ত পরিবেশ থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে।

কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই গ্রামেই বসবাস করছেন। রাস্তা ও খাল সংস্কার করা হলে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন চলাচল অনেক সহজ হবে।

পার্শ্ববর্তী মায়াঘাসি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের মতে, রাজারামকুড়া একটি পুরোনো গ্রাম হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন লাগেনি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আশপাশের গ্রামের মানুষও উপকৃত হবেন।

রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, রাজারামকুড়া ইউনিয়নের সবচেয়ে ছোট গ্রামগুলোর একটি। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রামটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: