বগুড়ার বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সকালে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ৭ জন দিনমজুর শ্রমিক এবং বিকেলে বিমানবন্দর সড়কে মাইক্রোবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আরও দুজন নিহত হন। আহত অবস্থায় অন্তত ১৯ জন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশে ব্যক্তিগত চিকিৎসক শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া বাজার স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দিনমজুর শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। বিকেলে একই উপজেলার বিমানবন্দর সড়কে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত শ্রমিকরা হলেন, বগুড়া সদরের ফাঁপোর মধ্যপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০), কাহালুর নরহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আবু সাইদ (৪৫) ও নুর আলম (৪৩), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আনোয়ারুল হক (৫৪), পাঁচবিবি উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৪০) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার তাজিমুল ইসলাম (৪৭)। পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত দম্পতি হলেন বাবুল হাসান (৫২) ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন বেগম (৪৫)।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, পৃথক দুই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং দুর্ঘটনার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর শ্রমিকরা কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই শ্রমিকের হাট থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দিনচুক্তিতে শ্রমিক নিয়ে থাকেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা সরকার নিশ্চিত করবে।
সাত শ্রমিক নিহতের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মাসুদ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।