বাংলাদেশের ওপর আর কোনো তাবেদারি চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে যদি কেউ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে, তবে তা শুধু ভুলই নয়, বিভ্রান্তিকরও। এই গণঅভ্যুত্থানের একক দাবিদার কেউ নয়; এর প্রকৃত মালিক বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘ফ্যাসিবাদ, জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ নওয়াজের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ আরিফের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিক আহমদ, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং আহত জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তারসহ অনেকে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেদিন দেশের মানুষ উপলব্ধি করেছে যে নির্যাতন, দুঃশাসন, স্বৈরাচার এবং কোনো পার্শ্ববর্তী দেশের তাবেদারির অধীনে আর থাকা যাবে না, সেদিনই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী মতের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনারই বিস্ফোরণ ছিল জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান।
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেন, এই বিপ্লব কারওকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত এক দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে, যা দেশের সার্বভৌম অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশের জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছি। বাংলাদেশের ওপর আর কোনো তাবেদারি বা খবরদারি চলবে না। আমাদের নীতি হবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্কের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কে এক দফা দিয়েছে, কে দুই দফা দিয়েছে, কার কত অবদান—এসব নিয়ে বিতর্ক করতে করতে স্বৈরাচার যদি আবার ফিরে আসার সাহস পায়, তবে তাকে দেশের প্রচলিত আইনেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কোনো বিশেষ আদালত নয়, প্রচলিত আইনেই বিচার হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তিও কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে ক্ষমতার সুবিধাভোগীরাও পালিয়েছে। এসব কারণে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী দেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের আবার মাঠে নামানোর আশা করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।