ভারতে অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত সরকার কোনোভাবে জড়িত নয় বলে স্পষ্ট করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এমইএর মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সংবাদ সম্মেলনটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয় এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে লক্ষ্য করে করা মন্তব্যও তারা সমর্থন করে না।
এদিকে, শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ও পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতি অসম্মানজনক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের তথ্য ও অনুসন্ধানকে অস্বীকার করার চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির শামিল এবং বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে।
তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। পাশাপাশি তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত নিজের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।