ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। টানা ১২ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে শত শত আন্দোলনকারী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতির মুখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
গত ৫ জুলাই ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ফল বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার রাঁচির মহকুমা কর্মকর্তা (এসডিও) কুমার রজত আন্দোলনস্থল পরিদর্শন করে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহের কথা জানান। এ জন্য আন্দোলনকারীদের পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, গণমাধ্যম ও ক্যামেরার উপস্থিতিতে প্রকাশ্য আলোচনাই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। সরকারের দাবি, অভিযোগগুলোর তদন্ত ইতোমধ্যে চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এ মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) ডিজিটাল তথ্য, আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করছে।
আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সংগঠিত চাপ সৃষ্টি জরুরি। তিনি জানান, সিজেপির সদস্যরা আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে ঝাড়খণ্ডে যাবেন।
সূত্র: এনডিটিভি