আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তার দাদা-দাদি এবং স্কুলের পাঁচ শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ, বিবিসি, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্কুলে যাওয়ার আগে ওই শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে দাদার লাইসেন্সধারী ৯ মিলিমিটার পিস্তল নিয়ে স্কুলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলায় স্কুলের পাঁচ শিক্ষক নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।
হামলার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেয় পুলিশ। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তবে সে আত্মহত্যা করেছে নাকি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে তিনি গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ ভেবেছিলেন। পরে টানা গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কে শ্রেণিকক্ষে আশ্রয় নেয়।
ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের দেশে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল! এ কারণেই সরকার সাধারণ নাগরিকদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অনুমোদন দেয় না।
থাইল্যান্ডে অস্ত্র আইন কঠোর হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে কয়েকটি প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই হামলা দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।