নেটফ্লিক্সের সাম্প্রতিক আলোচিত ওয়েব ফিল্ম 'মুসাফির ক্যাফে'-তে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন করে দর্শকদের নজর কাড়ছেন ভারতীয় অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। তবে আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, দারিদ্র্য আর অসংখ্য প্রত্যাখ্যানের গল্প।
মাত্র পাঁচ মাস বয়সে বাবাকে হারিয়ে মুম্বাইয়ের একটি বস্তিতে বেড়ে ওঠেন মহিমা। ছোটবেলায় অভিনয় ছিল না তার নিজের স্বপ্ন; বরং মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই নিয়মিত অডিশন দিতে শুরু করেন। স্কুল শেষে বাসে চড়ে বিভিন্ন অডিশনে অংশ নিতেন, আর প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তাকে সাহস জুগিয়েছেন তার মা।
মহিমার ভাষ্য, তার মা সবসময় নিজের একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নই তাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শিশুশিল্পী হিসেবে কাজের সময় অপমানও কম সইতে হয়নি। মাত্র ৯ বছর বয়সে একটি শুটিং সেটে অভিনয় না জানার মন্তব্য শুনে ভেঙে না পড়ে বরং নিজেকে আরও প্রস্তুত করেন।
২০১২ সালে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে'-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ধারাবাহিকটির সাফল্যের পর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই মায়ের জন্য প্রথম বাড়ি ও একটি গাড়ি কেনেন মহিমা।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা অর্জনের পরও বড় পর্দায় জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন 'টিভির অভিনেত্রী' পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়তে হয়েছে তাকে। অবশেষে ২০২১ সালে সালমান খানের 'অন্তিম' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার।
মহিমা জানান, 'অন্তিম' মুক্তির পর অনেকের আচরণ বদলে যায় এবং নতুন করে সবাই তাকে মূল্য দিতে শুরু করে। তবে এই অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে এক দশকেরও বেশি সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
প্রথম বাড়ি কেনার ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং আরও বড় একটি বাড়ি কিনেছেন এই অভিনেত্রী। টেলিভিশন, ওটিটি ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলে মাত্র ২৬ বছর বয়সেই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দুই দশকের পথচলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
তবে সাফল্য ও আর্থিক স্বচ্ছলতার মধ্যেও বাবাকে হারানোর শূন্যতা আজও তাকে কষ্ট দেয়। মহিমা বলেন, বাবার স্নেহ কেমন, তা তিনি কখনো অনুভব করতে পারেননি। তবে জীবনের সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন।