স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাহী আদেশে নয়, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আদালত নির্ধারণ করবে। তিনি জানান, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চলমান তদন্তের ভিত্তিতে আদালতই আওয়ামী লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তার ভাষায়, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী ব্যক্তিদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনও একদিনের ঘটনা নয়; দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতার ফল। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের আন্দোলনের অবদানও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে সরকার সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেবে। তিনি সবাইকে সংবিধান সংশোধন কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় প্রত্যাশাকে বাস্তবায়ন করতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন। এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।