জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। অহেতুক ইস্যু সৃষ্টি করে দেশে অস্থিরতা তৈরি করা হলে তা পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের পথ সুগম করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
জাদুঘর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, তৎকালীন বিভিন্ন ঘটনার আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন সরকার গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালায় এবং আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসেরও ধারক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তবে সেই বিচার প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়, আইনের শাসনের আলোকে পরিচালিত হবে।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না, এই প্রত্যাশা নিয়েই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।