আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রচারণার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তারা বলছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি। দেশে আসুন, রাজপথে দেখা হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দলটির মধ্যে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অনুশোচনা বা আত্মসমালোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আর প্রয়োজন হলে ৮২ বছর বয়সেও দেশের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী শহীদ পরিবার ও আহতদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল, তেমনি জুলাইয়ের আন্দোলনের লক্ষ্যও ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় থাকলেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে সংযম, প্রজ্ঞা ও ঐক্যের পরিচয় দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় সৃষ্ট হট্টগোলের ঘটনাও উল্লেখ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ভুল হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপরও জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিদেশি অতিথিদের সামনে এমন পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। নেতাদের পাশাপাশি অনুসারীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিভাজন নয়, ঐক্যই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।
বক্তব্যে আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ভুল করলে জনগণই তা শুধরে দেবে। তবে বর্তমান সরকার কখনও আওয়ামী লীগের মতো হতে চায় না।