জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, ২০২৪ সালের আন্দোলনের নানা দলিল, আলোকচিত্র ও স্মারক সংরক্ষণ করে গড়ে তোলা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর তা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, প্রদর্শনী কক্ষ ও সংরক্ষিত নিদর্শন ঘুরে দেখেন।
জাদুঘরটিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, আন্দোলনে নিহতদের ব্যবহৃত পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়ের সংবাদপত্রের কাটিং, অডিও-ভিডিও উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা, গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা এবং জুলাই আন্দোলনের সময়কার সহিংসতার তথ্য ও উপস্থাপনাও রাখা হয়েছে।
জাদুঘরের ভবনের নিচতলা, বিভিন্ন কক্ষ, করিডোর, বারান্দা ও বাইরের অংশজুড়ে আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট নানা স্মৃতি ও উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের জন্য সাজানো হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। বৃহস্পতিবার থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। অনলাইনে টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে; প্রবেশমূল্য বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।