বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক রাতে দুই দফা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। পৃথক দুটি ঘটনায় চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে (১ আগস্ট) থেকে রবিবার দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক—এই চার আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। অভিযোগ, আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন মাওলানা ভাসানী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ঘটনার জেরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে এর কিছুক্ষণ পর রাত প্রায় ১২টার দিকে ফসিল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, চায়ের দোকানে ভাঙচুর এবং বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।
উভয় ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তুললেও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এক পক্ষের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। অন্য পক্ষের বক্তব্য, আগের বিরোধ ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সোমবার ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, দুই ঘটনার তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, উপাচার্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া তথ্য, প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত এক সপ্তাহে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিরোধ ও অনলাইন বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক, শহীদ শামসুল হক, সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।