শিক্ষার্থীদের তীব্র আপত্তি ও আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে টাঙানো একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে দেখা যায়, প্যারিস রোডে স্থাপিত ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের বিলবোর্ডটি বহাল থাকলেও এতে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এর আগে রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছবিগুলো অপসারণ করা হয়।
গত শুক্রবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচার’-এর উদ্যোগে বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়। এতে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের আপত্তির পর বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে তারা এতে সম্মত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পর রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে বিলবোর্ডে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার রাত ১০টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিতর্কিত ছবিগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত জানানো হলে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
বিলবোর্ডটিতে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সাবেক নেতার পাশাপাশি বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবিও ছিল।
পরে বিলবোর্ডটি সংশোধন করে সেখান থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। সংশোধিত বিলবোর্ডে সুখরঞ্জন বালী, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবি রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বিলবোর্ডের অন্যান্য অংশে শাপলা চত্বর, জুলাই আন্দোলন, লগি-বৈঠা, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক, কোটা আন্দোলন এবং ‘আয়নাঘর’সহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছিল।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উপস্থাপনার স্থান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হওয়া উচিত নয়।