খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় খাদ্যশস্য বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের অজ্ঞাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের পরিবর্তে নামমাত্র অর্থ দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, যাদের নামে সরকারি প্রকল্প দেখিয়ে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই জানতেন না যে তাদের নামে কোনো সরকারি বরাদ্দ রয়েছে। কোথাও ১৫ থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাল তো দূরের কথা, বরাদ্দের বিষয়টিই জানতেন না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-২৫-২৯৬, তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৫-এর আলোকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকূলে ১৬ জন উদ্যোক্তার নামে মোট ১৬৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু মহালছড়ি উপজেলার থলিপাড়া হাজাছড়ি গ্রামের পাঁচজনের নামেই ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী—
নিটন খীসা-এর নামে গবাদিপশু পালন প্রকল্পে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি পেয়েছেন মাত্র ২ লাখ টাকা।
রূপসী চাকমা-র নামে শুকর পালন প্রকল্পে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও তিনি দাবি করেন, কোনো চাল বা অর্থই পাননি।
রাজিব কান্তি খীসা-র নামে বাগান সৃষ্টি ও সেচ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও তার হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।
পিন্টু খীসা-র নামে মিশ্র ফলজ বাগান প্রকল্পে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও তিনি জানান, তিনি কোনো টাকা বা চাল পাননি। এমনকি তার নামে কখন বরাদ্দ হয়েছে, সেটিও তিনি জানতেন না।
ইনন্ত চাকমা-র নামে দেশীয় ছাগল পালন প্রকল্পে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া অবশিষ্ট ১১ জন উদ্যোক্তার নামে আরও ৭৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— ফরিদুর রহমান, আবু তালেব, জসীম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মোছা. আনোয়ারা বেগম, মো. সেলিম, সাখাওয়াত হোসেন আল আমিন, আরিফুল ইসলাম, মো. রবিউল ইসলাম, নুপুর আক্তার ও মো. মিজানুর রহমান।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির মধ্যেও অনেকে জানতেন না যে তাদের নামে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ সরকারি নথিতে তাদের নামে বহু টন চাল বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীদের অন্ধকারে রেখে কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি খাদ্যশস্য লোপাটের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বঙ্গমিত্র চাকমার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এতদিন তারা কোথায় ছিলেন? আমার নামে মামলা করতে বলেন।