পাহাড়ি মাটির সোনায় ঘুরছে চন্দনাইশের ভাগ্য, অর্গানিক পেয়ারায় বদলাচ্ছে কাঞ্চননগর

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় অর্গানিক পেয়ারা চাষ এখন স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। একসময় অনাবাদি ও অবহেলিত পড়ে

2026-08-03T14:49:55+00:00
2026-08-03T14:49:55+00:00
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
পাহাড়ি মাটির সোনায় ঘুরছে চন্দনাইশের ভাগ্য, অর্গানিক পেয়ারায় বদলাচ্ছে কাঞ্চননগর
অর্গানিক পেয়ারায় বদলাচ্ছে কাঞ্চননগর
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় অর্গানিক পেয়ারা চাষ এখন স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। একসময় অনাবাদি ও অবহেলিত পড়ে থাকা পাহাড়ি জমিতে এখন সারি সারি পেয়ারার বাগান। এই ফলের উৎপাদনকে ঘিরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশেও যাচ্ছে কাঞ্চননগরের পেয়ারা।

ভোরের আলো ফোটার আগেই শ্রমিকদের নিয়ে বাগানে যান চাষিরা। গাছ থেকে সংগ্রহ করা পেয়ারা কাঁধে করে লোকালয়ে এনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে ট্রাক ও বিভিন্ন পরিবহনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় এই ফল। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসংলগ্ন রওশন হাটকে ঘিরে প্রতিদিন জমে ওঠে পেয়ারার বড় বাজার।

স্থানীয় চাষিদের দাবি, কাঞ্চননগরের পেয়ারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো ধরনের ক্ষতিকর কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত হয়। ফলে অর্গানিক ফল হিসেবে এর আলাদা সুনাম তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতার কারণে এখানকার পেয়ারা আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি এবং বাজারে বেশ চাহিদাসম্পন্ন।

পেয়ারা চাষি মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, আগে পাহাড়ি জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই জমিতেই পেয়ারা চাষ করে অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় পরিশ্রমের সার্থকতা মিলছে।

আরেক চাষি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন তিনি। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় এলাকার অনেক তরুণও এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের আরও কারিগরি সহায়তা পেলে উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে পাহাড়ি ও সমতল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও সন্তোষজনক। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ ও তদারকি করছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে চন্দনাইশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার বাগানে পেয়ারা উৎপাদন হয়। উৎপাদিত পেয়ারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে।

বর্তমানে খুচরা বাজারে মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি পেয়ারা ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের মতে, বাজারে চাহিদা অব্যাহত থাকায় এই পেয়ারা শুধু একটি ফল নয়, বরং দক্ষিণ চট্টগ্রামের গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: