গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবায় হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কাশিমপুর ভূমি অফিসের জন্য প্রযোজ্য। জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ শোনেন। পরে অফিসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবায় ঘুষ দাবি, দায়িত্বে অবহেলা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ জমা পড়ছিল। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রশাসন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
প্রশাসনের ভাষ্য, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাশিমপুর ভূমি অফিসে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়েন।
এদিকে বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও হয়রানি স্থায়ীভাবে বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসের কার্যক্রমও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে।