নীলফামারীতে পানির চাপে ধসে পড়ল স্লুইসগেট

নীলফামারী সংবাদদাতা

সারাদেশ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির চাপে ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

2026-08-02T20:51:20+00:00
2026-08-02T20:51:20+00:00
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
নীলফামারীতে পানির চাপে ধসে পড়ল স্লুইসগেট
হুমকিতে কৃষিজমি ও ৩ শতাধিক পরিবার
নীলফামারী সংবাদদাতা
রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির চাপে ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৩০০ পরিবারের বাসিন্দা।

রোববার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্লুইসগেটসংলগ্ন মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই স্লুইসগেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রোববার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চাপ বেড়ে যায়। পরে সেতুর পাশের ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হলে সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকেই স্লুইসগেটটি নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। পরে বাঁধের পাশের ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের বাড়িটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে যায়।

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক—উভয় মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। দ্রুত নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের মাধ্যমে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের সেচ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এটি না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। ফলে জমি অনাবাদি হয়ে যাবে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক হালিমা বেগম বলেন, গেটের সামনে পাটের ঝাঁক আটকে থাকায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমি বারবার গেট খুলে দেওয়ার জন্য চিৎকার করেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির অর্ধেক নদীতে ভেঙে যায়। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। এখন কীভাবে বাড়ি মেরামত করব, জানি না।

ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই ভাঙনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত নতুন সেতু ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: