চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নগরজীবন ও শিল্প খাত কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না অনেক পরিবার। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ এলপিজি, আবার কেউ রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলের বহু কারখানায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চট্টগ্রামে।
নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল ছাড়া দিনের বাকি সময় গ্যাসের চাপ থাকছে না বললেই চলে। ফলে রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবার অতিরিক্ত খরচে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে পতেঙ্গা, ইপিজেড, সীতাকুণ্ড, অক্সিজেন ও কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় বয়লার ও উৎপাদন লাইন পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। শিল্প মালিকরা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন বাড়ছে পরিচালন ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতি। সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে লোডশেডিংও বেড়েছে। একই সময়ে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। তবে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা গেলে দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।