‘গ্রীন সিটি, ক্লিন সিটি’—এমন নানা আকর্ষণীয় স্লোগানে গাজীপুরবাসীকে দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্ন নগরীর স্বপ্ন দেখানো হলেও এক দশকের বেশি সময়েও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় অর্ধকোটি নগরবাসী। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সরকারি খাসজমি ছাড়িয়ে এখন দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাংশ দখল করেই ফেলা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের শত শত টন বর্জ্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোনাবাড়ীর বাইমাইল এলাকার সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সীমানা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে আবর্জনার স্তূপ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে এখন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়িগুলো মহাসড়কের ওপর সরাসরি বর্জ্য ফেলে এবং সেখান থেকেই অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে সড়কের একটি বড় অংশ প্রায় সার্বক্ষণিক আবর্জনার দখলে থাকে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ২৩টি জেলার অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। বাইমাইল এলাকায় সড়কের একাংশ দখল করে বর্জ্য ফেলার কারণে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই সেখানে তীব্র যানজট লেগে থাকে।
এক দূরপাল্লার ট্রাকচালক বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে দ্রুত চলে এলেও বাইমাইল এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। ময়লার স্তূপে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এতে শুধু সময়ই নষ্ট হয় না, মানসিক ও শারীরিক ভোগান্তিও বাড়ে।
সড়কের ওপর পচনশীল বর্জ্য জমে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষাক্ত গ্যাস ও দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যাতায়াতকারী মানুষ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের একটি মহাসড়ককে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত করা যেমন জাতীয় সম্পদের অপচয়, তেমনি এটি পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের হুমকি।
গাজীপুরবাসীর দাবি, রাজনৈতিক আশ্বাস বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়—অবিলম্বে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে বর্জ্য অপসারণ করে বাইমাইল এলাকাকে যানজটমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব স্থায়ী বর্জ্য শোধনাগার বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, মহাসড়ক দখল করে বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।