হবিগঞ্জে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লাখাই উপজেলায় ছয়জন এবং বাহুবল উপজেলায় একজন মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, মৃত্যুর কারণ বিষাক্ত অ্যালকোহল নাকি অতিরিক্ত মদ্যপান—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের ডুবাঐ পশ্চিম বিজলী গ্রামের অন্তর বৈদ্য (২৮) গত ৩০ জুলাই রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। শনিবার (২ আগস্ট) তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, লাখাই উপজেলায় টানা ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, উপজেলার মোড়াকরি বাজারের একটি হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসি থেকে কেনা অ্যালকোহল পান করার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও ধারাবাহিক মৃত্যুর পর বিষাক্ত অ্যালকোহলের আশঙ্কা সামনে আসে।
লাখাইয়ে নিহতরা হলেন, মোড়াকরি গ্রামের সুজিত দাস (৩৬), সুদেব দাস (৬৫), রণজিৎ কুরি (৪০), ভাদিকারা গ্রামের নন্দলাল (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবি দাস (৪০) এবং রাঢ়িশাল গ্রামের এক অজ্ঞাতনামা যুবক। এছাড়া মোড়াকরি গ্রামের বিপ্লব দাস (৩৫) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই কয়েকজন একসঙ্গে অ্যালকোহল পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই রাতেই সুজিত দাস ও রণজিৎ কুরির মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুদেব দাস। এরপর নন্দলাল, তার স্ত্রী সুবি রবি দাস এবং আরেক যুবকেরও মৃত্যু হয়।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেও আগে এমন পরিস্থিতি হয়নি। তাদের অভিযোগ, বিষাক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণেই এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিষাক্ত অ্যালকোহলকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। অন্তত একজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ভিসেরা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, পরপর সাতটি মৃত্যুর ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যালকোহল বিক্রির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সচেতন মহল অবৈধ অ্যালকোহল বিক্রির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, বিক্রির উৎস শনাক্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা, মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।